ঘরে বসেই জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, নির্ভুলভাবে আবেদন করার পূর্ণাঙ্গ গাইড
জন্ম নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, কিন্তু সামান্য বানানের ভুল বা বয়সের গরমিলের কারণে অনেক সময় আমাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। আগে এই সংশোধন প্রক্রিয়া অনেক জটিল থাকলেও বর্তমানে অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে এটি অনেকটা সহজ করা হয়েছে।
সাধারণত যেসব ভুল বেশি হয়:
নিজের নামের বানান ভুল (বাংলা বা ইংরেজি)।
পিতা বা মাতার নামের বানান ভুল।
জন্ম তারিখ বা বয়সের ভুল।
স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার ভুল।
সংশোধন আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
ভুলভেদে কাগজের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণ কিছু কাগজ হলো: ১. শিক্ষা সনদ: এসএসস/জেএসসি বা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর সার্টিফিকেট। ২. পিতা-মাতার তথ্য: পিতা ও মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি কপি। ৩. টিকা কার্ড বা বার্থ রেকর্ড: যাদের বয়স কম, তাদের ক্ষেত্রে হাসপাতালের ডিসচার্জ পেপার বা টিকা কার্ড। ৪. পাসপোর্ট/এনআইডি: যদি আবেদনকারীর এনআইডি বা পাসপোর্ট থাকে।
অনলাইনে সংশোধনের সঠিক ধাপসমূহ:
ধাপ ১: প্রথমেই
bdris.gov.bd পোর্টালে যান এবং 'জন্ম নিবন্ধন সংশোধন' অপশনটি সিলেক্ট করুন।ধাপ ২: আপনার ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে লগইন করুন।
ধাপ ৩: আপনার যে তথ্যটি ভুল আছে (যেমন- নাম বা বয়স), সেটি সিলেক্ট করে সঠিক তথ্যটি ড্রপডাউন মেনু থেকে পূরণ করুন।
ধাপ ৪: সংশোধনের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে আপনার শিক্ষা সনদ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি (PDF/JPG) আপলোড করুন।
ধাপ ৫: আবেদনটি সাবমিট করার পর একটি অ্যাপ্লিকেশন কপি পাবেন। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
আবেদন জমা ও ফি:
আবেদন করার পর সরকারি ফি নির্দিষ্ট ব্যাংকে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এরপর প্রিন্ট কপিটি নিয়ে আপনার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। তারা আপনার তথ্য যাচাই করে সংশোধনের অনুমোদন দেবেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে বর্তমানে বেশ কড়াকড়ি নিয়ম পালন করা হয়। তাই সঠিক প্রমাণপত্র ছাড়া বয়সের জন্য আবেদন না করাই ভালো।
